ছড়া

তোমার অর্জন তোমার কীর্তি

রয় যেনো এই ধরার বুকে

তোমার সুনাম যেনো শুনি

যুগে যুগে লোকমুখে।

করোনা বাজায় মৃত্যুঘন্টা ঐ

ছবিঃ ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত দু’দিনে ৪০০ এর বেশি রোগী মারা গিয়েছেন। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা। অক্সিজেন সিলিন্ডারের চরম সংকট। পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলা যায়। স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন দূর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন দেশের বিশিষ্টজন, ছাত্রনেতা ও সাধারণ জনতা। কিন্তু এ রেওয়াজ তো নেই এদেশে। অথবা এটা তার পদত্যাগের সঠিক সময় নয় যতক্ষণ না ‘তিনি’ নির্দেশ দিচ্ছেন। কেননা, একজন পদত্যাগ করলে যদি পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায় তাহলে তো মহাবিপদ!

অন্যদিকে, সারাদেশজুড়ে শাটডাউনের ফলে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, অনেকে ছেড়েছেন ব্যবসা-বাণিজ্য। সর্বস্ব হারিয়ে অথবা ঋণের চাপে কিংবা দু-মুঠো ভাতের জন্যে অনেক আত্মহত্যার খবর আমরা শুনতে পাই। মধ্যবিত্ত পরিবারে নেমে এসেছে অশান্তি। তারা না পারছে কিছু করতে না পারছে কিছু সইতে। অনাহারে দিন কাটছে লাখো লাখো দিনমুজুরের। খুব খারাপ অবস্থায় দিনযাপন করছেন তারা। কোথাও কোথাও মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ছে, আন্দোলন করছে, ক্ষুধা নিবারণের জন্যে খাদ্য চাইছে। বিপরীতে বেড়ে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম। অথচ কোথাও নেই সরকারি ত্রাণ।

স্কুল, কলেজগুলো বন্ধ। সরকার চাইলে শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। আমি মনে করি তা অসম্ভব ছিলো না। সংক্ষিপ্তাকারে সিলেবাস তৈরি করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে হয়তো ছাত্র-ছাত্রীদের কিছুটা হলেও উপকার হতো। কিন্তু সরকারের সে সদ্বিচ্ছা নেই। অটোপাশ প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারাচ্ছন্ন এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

জানি না আজ কী খবর আসে। কতজন মারা যায়। কতো স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে যায়। শুধু এটুকু বলতে পারি, হুট করে মৃত্যুহার কমবে বলে মনে হয় না। প্রার্থনা করি, এ অবস্থা যেনো শীঘ্রই কেটে যায়।

সুতরাং, এই দেশ, সমাজ ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি নাগরিকের উচিত সামগ্রিক স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। জনসমাগম এড়িয়ে চলা। মাস্ক পরিধান করা। আমাদের ভুলে, আমাদের হেয়ালীপনার কারণে যেনো চরম মূল্য চুকাতে না হয়।

কিছু কথা

আমি মানুষ। বাঙালি মুসলিম এক যুবক। শান্তিপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক। রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। স্বাধীন এক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে গর্বিত আমি। এ দেশের গৌরবগাঁথা ইতিহাস আমাকে প্রাণচঞ্চল করে তোলে। মাতৃভাষার জন্যে এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ বীরত্বের সাথে জীবন বিসর্জন দিয়ে আমাদের এনে দিয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। আমরা তাঁদের গর্বিত সন্তান। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি—এ শুধু তাঁদের অবদান। নাগরিক হিসেবে আমরা সবাই যদি নাগরিক দায়িত্ব পালন করি তবে এ দেশটা আরও সামনে এগিয়ে যাবে।

আমার কোনও দুঃখ নেই

আমার কোনও দুঃখ নেই। নিশ্চয়ই কোনও দুঃখ নেই আমার। এই যে আমি—আমার মতই আছি। সহজে হৃদয়কে প্ররোচিত হতে দিই না। আপনিও পারবেন! চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কবি বলেছেন,

          ❝একবার না পারিলে দেখ শতবার।❞

কালী প্রসন্ন ঘোষ

আমিও চেষ্টায় আছি। প্রয়োজনে শতবার হলেও চেষ্টা করব। চেষ্টাতে কোনও ত্রুটি রাখতে চাই না আমি। যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন হৃদয়কে ধোঁকা থেকে বাঁচাতে পারি। একবার যদি তাকে দুঃখ ছুঁয়ে দেয় তাহলে সংক্রমণ ঘটবে। আমি যে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে মরতে চাই না অন্তত।

দুনিয়ায় অন্যকারো জন্যে দুঃখ করার কোনও অর্থ হয় না। জীবনটা আমার—আমি আমার মতো করেই উপভোগ করতে চাই। তাছাড়া, এমন কিছু বিষয় আছে যা কয়েক বছর পরে মনে হয়, “ওসব নিতান্তই ছেলেমানুষী ছিল।”

প্লিজ! আমাকে জিজ্ঞেস করো না যে, ‘আমার বিশেষ কোনো দুঃখ আছে কি?’ যদি উত্তর হয় এমন,— “মানুষ মরণশীল। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। আমার মায়ের মৃত্যু আমার হৃদয়কে কি তছনছ করে দিতে সম্ভব?

আমি খুব নাছোড়বান্দা। তাই কিছুটা অর্ন্তমুখী স্বভাবের মানুষ। ভেতরের খবর ভেতরেই পঁচে-গলে। মানুষের কাছে বলি না। কেউ কেউ আছে—শুনে, কিন্তু ঠিকই মনে মনে হাসে। আমার মনের দুঃখ শুনে অন্যের মন হাসবে, এমন কাজ ঘুণাক্ষরেও করি না আমি। বলতে গেলে, অন্য একজন মানুষের চেয়ে আমি একটু অন্যরকমই বটে। যার হৃদয় আছে তবে দুুঃখ নেই।